২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) বিশ্বের শীর্ষ ১০ বীমা কোম্পানির বাজারমূল্য ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বা ৫ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার কমেছে। সব মিলিয়ে কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি বা ১ দশমিক ৩৯ ট্রিলিয়ন কোটি ডলার। পতনের এ চিত্র দেখে বৈশ্বিক বীমা খাত বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে মূল বিষয় ভিন্ন। আট মাসে শীর্ষ ১০ বীমা কোম্পানির মধ্যে শুধু একটি কোম্পানিই লাভের মুখ দেখতে পারেনি। এসব তথ্য জানিয়েছে মূলধন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কোম্পানিজমার্কেটক্যাপ ডট কম। খবর আনাদোলু।
তালিকার শীর্ষস্থানে থাকা ইউনাইটেডহেলথের পতনেই বিশ্ব বীমা খাতের মোট বাজারমূল্য সংকুচিত হয়েছে। বেশকিছু ধারাবাহিক সংকটে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৯ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার। যদিও ২৭ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের বাজারমূল্য নিয়ে এখনো কোম্পানিটি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। গত নভেম্বরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রায়ান থম্পসনের অপ্রত্যাশিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে কোম্পানিটি একের পর এক ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। এর পর পরই তাদের মুনাফার পূর্বাভাস সংশোধন করে এপ্রিলে কমানো হয় এবং নতুন সিইও অ্যানড্রু উইটির আকস্মিক পদত্যাগের কারণে শেয়ার বিক্রিতে জটিলতা দেখা দেয়। এর সঙ্গে যোগ হয় মার্কিন বিচার বিভাগের একটি তদন্ত।
এক পর্যায়ে ওয়াল স্ট্রিটে ইউনাইটেডহেলথের শেয়ারদরে প্রায় ২৫ বছরে সর্বোচ্চ পতন হয়। তবে আগস্টে বিলিয়নেয়ার ওয়ারেন বাফেটের শেয়ার কেনার খবরে হঠাৎ শেয়ারদর প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। কিন্তু পরের কয়েক দিনেই তা আবার কমে আসে।
অন্যদিকে বাকি নয়টি কোম্পানিরই বাজারমূল্য ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য গড়ে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে জার্মানির বীমা কোম্পানি আলিয়াজঁ এসইর বাজারমূল্য সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করেছে। এর বাজারমূল্য ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭৯০ কোটি ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রগ্রেসিভের বাজারমূল্য ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১৪ হাজার ৬৯০ কোটি ডলারে।
আলিয়াজঁ এসইর দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের নিট মুনাফা ১৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে প্রগ্রেসিভের ব্যক্তিগত বীমা খাতের উচ্চ পারফরম্যান্সের কারণে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করেছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইউনাইটেডহেলথের একার পতন বাদ দিলে বৈশ্বিক বীমা খাতের সামগ্রিক চিত্র স্থিতিশীল ও ইতিবাচক বলা যায়।